মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

এক নজরে পৌরসভা

 মোংলা পোর্ট পৌরসভা বাগেরহাট জেলার ০৯টি উপজেলার মধ্যে যে কয়েক টি পৌরসভা আছে তার মধ্যে মোংলা পোর্ট পৌরসভা অন্যতম ।এটা মোংলা বন্দর নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিথ ।সম্প্রতি এটা একটা প্রথম শ্রেনীর পৌরসভার মর্যাদা পেয়েছে। পৌরসভার পিছনে মোংলা নদী যেটা রামপাল উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে। মোংলা উপজেলা হতে পৌরসভার দূরত্ব আধা কিমির মত।

এক নজরে পৌরসভা
 
পৌরসভার নাম:মোংলা পোর্ট
স্থাপিত:1975
শ্রেণী:
উপজেলা:মোংলাপোর্ট
জেলা:বাগেরহাট
বিভাগ:খুলনা
আয়তন ::১৯.৪৩ বর্গ কিঃ মিঃ
ওয়ার্ড সংখ্যা:9
জনসংখ্যা:126663

পৌরসভার ওয়েব পোর্টাল ভিজিট করুন এখানে ক্লিক করে

মোংলা পোর্ট পৌরসভার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায়

মাননীয় মেয়র মহোদয় এর

বাণী

      বাংলাদেশের সর্বদক্ষিনে খুলনা হতে প্রায় ৫৫.০০ কি:মি: দুরত্বে সমুদ্র থেকে খুবই নিকটবর্তী (প্রায় ৫০.০০ কি:মি) বাংলাদেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলাকে কেন্দ্র করে পশুরনদীর কোলঘেষে ততকলীন চাঁদপাই ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়ন হতে ১৯.৪৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকার সমন্বয়ে গড়ে উঠে অপার সম্ভাবনাময় মোংলা পোর্ট পৌরসভা। নানা কারনে এ পৌরসভার গুরুত্ব অনেক। বিশেষ করে সুন্দরবন যা পৃথিবীর সর্ববৃহতম্যানগ্রোভ বনভূমি হিসেবে পরিচিত, প্রকৃতির এই নিস্ব:র্গভান্ডার মোংলা পোর্ট পৌরসভার কাছাকাছি হওয়ার কারনে বসন্ত ও শীত মৌসুমে অসংখ্য দেশীবিদেশী পর্যটকদের আগমনে এ অঞ্চলটি মুখরিত থাকে। তাছাড়া ভ্রমন পিপাষুদের দর্শনীয়স্থান যেমন; হিরণপয়েন্ট, আকরাম পয়েন্ট, দুবলারচর, আলোর কোল, হারবাড়িয়া, করমজল,কটকা, কচিখালী, টাইগার পয়েন্ট, জয়মনিরঘোল, এবং সুন্দরবনের অভ্যন্তরিন অনেক প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য দেখার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান হতে তথা বিভিন্ন দেশের পর্যটকগণ মোংলা পোর্ট পৌরসভা হয়ে এ স্থান পরিদর্শন করে থাকেন। যে কারনে এ পৌরসভাটি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও বিভিন্ন দেশের কাছে অনেক গুরুত্ব বন করে কিন্তু অমিত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও উন্নয়ন ও প্রচেষ্টার অভাবে গুরুত্ত্বপূর্ণ এই পৌরসভাটি ক্রমান্বয়ে পশ্চাতপদ হয়ে রয়ে গেছে। সেই ১৭৭৫ সাল হতে পৌরসভা সৃষ্টি হওয়ারপর থেকে যথাযথ উন্নয়নের অভাবে নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে। বিগত পৌর পরিষদের অপরিকল্পিত কার্যক্রম এবং সীমাহীন উদাসিনতার কারণে পৌরসভাটি সবচেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় পৌর শ্রীবৃদ্ধিতে কোন পালক যোগ হয় নি। বিগত দিনে ২০০০ সালের দিকে কিছু রাস্তাঘাট ও ড্রেন, কালভার্ট করা হয়েছিল সাথে সাথে একটি বাস টার্মিনাল ও একটি কিচেন মার্কেট করা হয়েছিল যেগুলো পৌরসভার অর্থনৈতিক উন্নয়নের তেমন কোন কাজে আসে না। সে সময়ের রাস্তা ঘাট ও অবকাঠামো গুলো প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়  সিডর ও জলোচ্ছ্বাস আইলার কারণে ধ্বংশ প্রায়।বিশেষ করে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পৌরসভার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খাল গুলিরমুখে সুইচ গেট না থাকা পৌরসভার একটি মূল সমস্যা। যার কারণে জোয়ারের সময় পৌরসভার রাস্তা ঘাট ১/২ ফুট পানির নীচে তলিয়ে যায় তখন মানুষের ভোগান্তির সীমা থাকে না। আর রাস্তা ঘাটের দৈন্যদশার কারণ মানুষ জন ও যানবাহন চলাচলের পথে নানা রকম দুর্ঘটনায় অনেকেই পঙ্গুত্ত্বের শিকার হয়। বর্তমান পরিষদ ক্ষমতায় আসার পর কাউন্সিলরবৃন্দ পৌরকর্মকর্তা/কর্মচারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে আমি পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি এবং হাতে নেওয়া হয়েছে আরো ১,১৭৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা সম্প্রসারণের কাজ।

     একটি সুপরিকল্পিত নগর গঠনের লক্ষ্যে হাতে নিয়েছি যানজট মুক্ত প্রশস্ত রাস্তা, রাস্তার পাশে এস এস পাইপের রেলিংও সিরামিক ইটে মোড়ানো নান্দনিক ফুটপথ যা পৌরসভার শোভা বর্ধন করবে। সবচেয়ে বেশিগুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উন্নত ড্রেনেজ সিস্টেমের প্রতি যা পৌরসভাকে জলাবদ্ধতা হতেমুক্ত করবে। নেয় হয়েছে পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত সড়ক বাতির ব্যবস্থা। বিভিন্ন ওয়ার্ড ভিত্তিক সুইপার নিয়োগ করে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সরাসরি নজর দারিতে আবর্জনা অপসারন ব্যবস্থা, মশক নিধন এর জন্য ফগার মেশিন দিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন সময়ে নিয়মিত স্প্রে করা, উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রদনের জন্য নেয়া হয়েছে একজন খন্ডকালীন এম,বি,বি,এস ডাক্তার ফলে পৌরসবার পক্ষ হতে নিয়মিত ভাবে বিনা মূল্যে হত দরিদ্র পৌরবাসীকে সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বিত্ত বিনোদন এর নেয়া হয়েছে নানা রকমের উদ্দ্যোগ।

     পৌরসভার কোমলমতি ছেলে/মেয়েদের মানসিক বিকাশের জন্য শিশুপার্ক তৈরীর সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নেয়া হয়েছে বিভিন্ন রকম বৃক্ষ রোপন প্রকল্প। পৌরবাসীর নিরাপত্তার কথাচিন্তা করে পৌ পুলিশ নিয়োগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পৌরসভার সব সেক্টরকে কম্পিউটারাইজড সিস্টেমের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। জনগণের টাকা সরাসরি গ্রহন না করে ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহন করা হচ্ছে। অফিসে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা, অত্যাধুনিক টাইম এটেন্ডেস মেশিন ও দেয়া হচ্ছে ইন্টারনেট সুবিধা এবং ইন্টারনেট ইত্যাদির মাধ্যমে পৌর দাপ্তরিক কর্মকান্ডের আধুনিকায়ন এর উদ্দ্যেগ গৃহিত হয়েছে।

এছাড়াও মোংলাপোর্ট পৌরসভায় আছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত ৮৩.৯৪ একর জমিরউপর এনভায়রনমেন্ট ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ওয়াটার ট্রীটমেন্ট প্লান।যার মাধ্যমে প্রায় ১৫০০ পরিবারকে নিয়মিত ভাবে সুপেয় খাবার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ২৫ কি:মি: পাইপ লাইন সংযুক্ত আছে। ভবিষ্যতে পৌরবাসীকে শতভাগ সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য দ্বিতীয় প্রকল্পের কাজ শুরুর অপেক্ষায় আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পৌরবাসীর সুপেয় পানির সীমাহীন কষ্ট লাঘবে শতভাগ সাফল্য আসবেবলে মনে করি। এছাড়া শিশুদের চিত্ত বিনোদনের জন্য শিশুপার্ক, মাল্টি পারপাস কমিউনিটি সেন্টারনিমার্ণ করার কার্যক্রম চলমান আছে। বর্তমানে পৌর কাউন্সিলর, পৌরকর্মকর্তা/কর্মচারী ও পৌরবাসীর সরাসরি সম্পৃক্ততায় এই পৌরসভার উন্নয়ন আসলেই অনেকের ঈর্ষার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

কারন পৌরবাসী পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকান্ডের সংঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়া এবং আমাদের একান্ত নিষ্ঠা, উন্নয়নের অদম্য ইচ্ছা ও দক্ষ পরিচালনার কারণে অনেকগুলি প্রকল্পে অন্তর্ভূক্তির কঠিন পরীক্ষায় পৌরসভা উত্তীর্ণ হয়েছে। বর্তমানে মোংলা পোর্ট পৌরসভার বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নে মূলক কাজ চলমান আছে। একটি প্রকল্পের কিছু কাজ ইতি মধ্যে সমাপ্ত হয়েছে এবঙ কিছু কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমি ও আমার পরিষদ দায়িত্ব গ্রহনের পর হতে এ যাবত সম্পাতি ও চলমান কিছু কাজের বিবরণ পর্যালোচনা করা হলো:

(১) বিএমডিএফ এর অর্থায়নের ইতিমধ্যে ১.৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ (চারটি) সু-প্রশ্স্ত রাস্তা ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ষ্ট্রীট লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

(২) বিএমডিএফ, সিটিজন প্রকল্প হতে বর্তমান অর্থবছরে মোংলা পোর্ট পৌরসভার বিভিন্ন কাজেরজন্য প্রায় ২০,০০,০০,০০০  (বিশ) কোটি টাকার অর্থায়ন অনুমোদন হয়েছে। যা দিয়ে পৌরসভায় অত্যাধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন আন্তর্জাতিক মানের ১০০০ টি ট্রাক ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাক টার্মিনাল নির্মিত হতেযাচ্ছে, স্থান নির্ধারনে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব কমোডর হাবিবুর রহমান ভূইয়া এর সহিত যাবতীয় কার্যক্রম চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়া নতুন একটি পৌরভবন নির্মিত হবে, যেখানে থাকবে পৌর কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এবং পৌরবাসীরপ্রয়োজনীয় সকল দাপ্তরিক সুবিধা, মসজিদসহ আবাসন সুবিধা স্বাস্থ্যসবো ও ননষ্টপ সার্ভিসদিয়ে পৌর কমপ্লেক্স আন্তর্জাতিক মানের মৎস্য মার্কেট কাম ব্যাংক ও শিশুদের জন্যশিশুপার্ক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

(৩) অর্থ বছর২০১১-২০১২ সালে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ও এর বিশেষ বরাদ্দের আওতায় ১.৩০ কোটি টাকা ব্যয় পৌরসভার ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের ১৮টি রাস্তা ও ৬টি ড্রেন নির্মাণ ও অতিজরাজীর্ণ রাস্তার ভাঙ্গন মেরামত, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড আলোকিত করণের জন্য এনার্জি বাল্ব সেট ক্রয়, বিভিন্ন স্থানে বাশের সাকো নির্মাণ ও কয়েকটি কাঠের ব্রীজ মেরামত করন কাজ করা হয়েছে। তাছাড়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গরীব পৌরবাসীকে বিনামূল্যে সুপেয় পানি প্রদানের জন্য ৩৩টি স্থানে ফ্রি পানির কল স্থাপন করা হয়েছে।

(৪) অর্থ বছর২০১২-২০১৩ সালে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় ৭৫.০০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২২টিছোট বড় রাস্তা ও ৫টি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া ইতিপূর্বে মামার ঘাটে রাস্তানির্মাণ ও পারাপার ঘাট নির্মাণ, মাদ্রাসা রোডে ঠাকুরানী খালের উপর ব্রিজটির সংস্কার, সাবমারসিবল পাম্প নিজস্ব অর্থায়নে মেরামত করা হয়েছে। এছাড়া পানি নিষ্কাশন ব্যবব্যবস্থা ও রাস্তা ঘাটের অনেক উন্নতি সাধিত হয়েছে এবং পৌরবাসীর জীবন যাত্রার মানের কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে।

(৫) গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (IUIDP)

প্রকল্পটি বর্তমান পরিষদের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক আগত প্রথম প্রকল্প।এই প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার জন্য বরাদ্দকৃত ৪.৮০ কোটি টাকা হতে ইতি মধ্যে ১.৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জরাজীর্ণ ৫টি ছোট বড় রাস্তা ও ২টি পাকা ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের বাকী ৩.৪৫ কোটি টাকার কাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষামান। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে।LGED ২ কি:মি: রাস্তা ও ব্রীজ-৩৬ মিটার, ২ কোটি ৪৫ লক্ষ ও ১ কোটি ২৮লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হতে যাচ্ছে। কয়েকটি কালভার্টও এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

(৬) নগরঅঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প (CRDP)

ADB অর্থায়ন মোংলা পোর্ট পৌরসভার জন্য স্মরন কালের সবচেয়ে বড় প্রকল্প যা পৌরবাসীর জন্য আর্শীবাদ বয়ে এনেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ি তাহলে পৌরসভার সাধারন জনসাধারনের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি মোংলা পোর্ট পৌরসভাকে আধুনিক ও মডেল পৌরসভায় রুপান্তরিত করা সম্ভব হবে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১১০.০০কোটি টাকামোংলা পোর্ট পৌরসভার জন্যবরাদ্দ রয়েছে।

(৭) জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট ফান্ড (PPCCTF) গ্রীন হাউজএ্যাফেক্ট

একাবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় যার মূল সমস্যা বাংলাদেশে লক্ষ্যনীয়, বিশেষ করে দক্ষিনাঞ্চলের সমুদ্র উপকুলীয় শহর মোংলা সর্বাধিক ঝুকির মধ্যে রয়েছে। সমুদ্র সমতলে অবস্থিথ হওয়ার কারনে জোয়ারের সময় সহজে পানি শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এই এলাকার সামগ্রিক পরিবেশকে বিপর্যস্থ করেছে। আবার মাঝে মাঝে পানি জমে জলবদ্ধতা তৈরী করছে ও লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি বছর 0.0120C তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ০.৬৫ মিটার বৃদ্ধি পাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে এলাকাটি সমুদ্র গর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের তথা মোংলা পোর্ট পৌরসভায় জীব বৈচিত্র, কর্মসংস্থান, কৃষি, মৎস্য চাষ, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন সহ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ক্ষতির মূল কারন জলবায়ু পরিবর্তন যা মোকাবেলা করা এখন সময়েরদাবী ও বিরাট চ্যালেঞ্জ।

যার কারণে অনেক মানুষ উদ্বাস্ত হয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। জলোচ্ছ্বাসে জীবন ও সম্পদএবং অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। পৌরসভা পক্ষ হতে ১৫.৮৩ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তত করে স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তর জমা প্রদান করা হয়েছে।

প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষতিকর প্রভাব হতে মোংলা পোর্ট পৌরসভাকে অনেকাংশে রক্ষা করা সম্ভব হবে। ভেড়ী বাধের উপর সোলার ষ্ট্রীট লাইট স্থাপন করা হবে এবং ভেড়ী বাধের দুইপাশে বৃক্ষ রোপন করে নির্মল পরিবেশ সৃষ্টিকরা হচ্ছে।

এছাড়াও বর্তমানে আরও নানামুখী কার্যক্রম গ্রহন করেছি যা বাস্তবায়নের জন্য নিরলস ভাবে কাজকরে যাচ্ছি। তারমধ্যে আছে গুনীজন সম্বর্ধনা, শ্রেষ্ঠ প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্বর্ধনা, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরষ্কার প্রদান, নিয়মিত খেলাধূলার ব্যবস্থা গ্রহন, অসুস্থ ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগীতা করা, মৃত-অসহায় ব্যক্তিদের দাফন কাফনের ব্যবস্থা ও প্রতি মাসে মৃত ব্যক্তিদের জন্য কবরস্থান মসজিদে দোয়া ও তাবারক বিতরন, অসহায় গরীবদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন করা ও ভেড়ী বাধের দুই পাশে এবং পানি প্রকল্পে বৃক্ষ রোপন করে নির্মল পরিবেশ সৃষ্টিসহ নাগরিকদের সুবিধার্থে অনেক কাজ চলমান আছে।

এছাড়াও  বর্তমানে আরো নানামুখী কার্যক্রম গ্রহন করেছি যাবাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, বধ্যভূমি নির্মাণ, রিসোর্ট নির্মাণ, খেলাধুলার মান বৃদ্ধি ও প্রসারের জন্য একটি আধুনিক মানের ষ্টেডিয়াম নির্মাণ, ঈদের নামায পড়ার জন্য অত্যাধুনিক ঈদগাহ ময়দান, যাত্রী পারাপারের জন্য নান্দনিক যাত্রীছাউনী নির্মাণ, পৌরসভার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আধুনিকায়ন ও পৌরসভার বিভিন্নস্থানে সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ। কবরস্থান ও শশ্মানের আধুনিকায়নের কাজও করতেযাচ্ছি।

আমি পৌরসভার দায়িত্বভার গ্রহনের পর বিশ্বের উন্নত কয়েকটি দেশ সফর করার সুযোগ আমার হয়েছে। বিশেষ করে অষ্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের মিউনিসিপ্যালিটি গুলির নাগরিক জীবন যাত্রার মান খুবই উন্নত। তাদের কাছ থেকে আমাদের শেখার অনেক কিছু আছে। মিউনিসিপ্যালিটি পরিচালনা পর্ষদ যেমন শক্তিশালী তেমনি নাগরিকরাও খুবই সচেতন। হয়ত ঐ স্তরে আমাদের পৌছাতে সময় লাগবে তবে বর্তমান অবস্থা থেকে অনেক খানি এগিয়ে যেতে পারবো বলে আমি আশাবাদী।

অবশেষে আমার সংক্ষিপ্ত সময়ে দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগীতা পেলে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী তথা মডেল পৌরসভা উপহার দেবো। আমি একটি সুন্দর নগরীর স্বপ্ন দেখি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরজন্য চাই সাজানো ফুলের বাগানের মত নগর। মোংলা পোর্ট পৌরসভা হোক সেই স্বপ্নের মহানগরী। সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় সবাইকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। “ধন্যবাদ”

 

 
মো: জুলফিকার আলী

         মেয়র
মোংলা পোর্ট পৌরসভা
   মোংলা,বাগেরহাট।